1. info@voicectg.com : Voice Ctg :
সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ২ – ভয়েস চট্টগ্রাম ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে। কক্সবাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠা তরুণীর মৃত্যু। আকাশে ওড়ার ১৫ মিনিটের মাথায় নভোএয়ারের জরুরি অবতরণ। এবার ঘুমধুমের টমটম চালক আনিসের ঝুড়িতে মিললো ৬১১২ পিস ইয়াবা। ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন দিবস -তথ্যমন্ত্রী। বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন মুস্তাফার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত। আওয়ামীলীগের মাঠজরীপে আছহাব উদ্দিন মেম্বার আবারো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। মেয়ে তুমি জম্মেই অভিশপ্ত – লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ কাজল দাশ, সম্পাদক ভয়েস চট্টগ্রাম উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবাসহ এক নারী মাদককারবারি আটক।

কক্সবাজারের প্রায় ইউপিতে কোটি টাকার ছড়াছড়ি, মেম্বার হতে লক্ষ লক্ষ টাকার শোডাউন

প্রধান নির্বাহী।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

আগেকার দিনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার পদ অলংকৃত করতো সমাজের উদার মানবিক ত্যাগী মানুষগুলো। এই পদবি ছিলো প্রকৃত সমাজ সেবক বা দেশপ্রেমিক গ্রামের সহজ-সরল রাজনীতিবিদের জন্য, এখন অনেকটা উপেক্ষিত এই প্রথা। বর্তমানে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে কালো টাকা সাদা করার, বংশমর্যাদা নাম পরিবর্তন বা সুনাম সৃষ্টির, এলাকার আধিপত্যের বিস্তারের হাতিয়ার। কোটি কোটি টাকা অস্ত্রের ঝনঝনানি, প্রতিবেশীর রক্তের মধ্যে দিয়ে নির্বাচীত, সমাজের অযোগ্য বৃক্তিরাই হচ্ছে চেয়ারম্যান।

একজন ইউপি চেয়ারম্যান মাসিক বেতন পায় সরকারি অংশ ও ইউপি অংশ ৩৬০০+৪৪০০= ৮০০০ টাকা।
তার মেয়াদকাল ৫ বছর অর্থাৎ ৬০ মাস। সে বেতন পাবে ৬০ মাসে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
যেখানে তার নির্বাচনী খরচ নির্ধারিত ৫ লাখ টাকা।
সে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান হবে, ৪.৮ লাখ টাকার জন্য(?)

একজন ইউপি সদস্য মাসিক বেতন পায় সরকারি অংশ ও ইউপি অংশ ২৩৭৫+২৬২৫= ৫০০০ টাকা।
তার মেয়াদকাল ৫ বছর অর্থাৎ ৬০ মাস। সে বেতন ৩ লক্ষ টাকা।
যেখানে তার নির্বাচনী নির্ধারিত ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
সে এখানে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে ইউপি সদস্য হবে, ৩ লাখ টাকার জন্য(?)

কক্সবাজারে চেয়ারম্যান হতে কোটি কোটি টাকার নির্বাচনী যুদ্ধ, মেম্বার প্রার্থীর লক্ষ টাকা খরচের শোডাউন। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলায় সদ্য সমাপ্ত  হয়েছে ২১ ইউপির নির্বাচন। এসব ইউনিয়ন  ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা ও শোডাউনে প্রার্থীরা খরচ করেছেন কোটি কোটি টাকা, এখানে নির্বাচন কমিশন ব্যায় নির্ধারিত অর্থের পুরোটা দিয়ে প্রার্থীদের একটা শোডাউনের খরচও হয়না। সর্বনিম্ন খরচ করা ভাগ্যবান প্রার্থীদের মধ্যে উখিয়া উপজেলার এক ইউনিয়নে, বিজয়ীর প্রাপ্ত ভোট ৪৭০০ টি, তার বিপরীতে খরচ করেছেন ৪৫ লক্ষ টাকা। আরেক ইউপিতে সরকার দলীয় প্রার্থী ভোটের আগের দু রাতে কোটি কোটি টাকা ছিটালেও বিজয়ের মুখ দেখেননি। আবার বেশ কয়েকজন কোটি টাকা খরচ করলেও বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীর খরচও ৩০ লাখের উপরে, যেই বিষয়টা এই এলাকায় সচরাচর তা হলো, জয়পরাজয় যাই হোক অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থী কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ করেন ও করছেন। এই উপজেলায় ডজনেরও বেশি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে, এমনও আছে ২০ লক্ষ টাকা খরচ করেও মেম্বার নির্বাচিত হতে পারেননি অনেকে।

নির্বাচনমুখী টাকার উৎসের ব্যয়!

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং একজন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যের নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। কমিশন আইন অনুযায়ী একজন ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্যের নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারিত ব্যয়ের অনধিক হওয়া মানেই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে,একজন চেয়ারম্যান বা সদস্য আদৌ কি কমিশন কর্তৃক নির্বাচনী ব্যয় নির্দেশিত কাঠামোতে ব্যয় কার্যক্রম চালনা করেন?
সহজ উত্তর,না!

আমরা প্রতিনিয়ত এই চিত্র প্রত্যক্ষ করেছি এবং করছি। যেখানে সামান্য একজন ইউপি সদস্য ইউপি নির্বাচনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে খরচ করে থাকেন। যেখানে নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া নিয়ম-নীতি বড্ড বেমানান,অবহেলিত এবং উদাসীন।

এক্ষেত্রে আমার একটা বাস্তব ঘটনা শেয়ার করি,একদিন আমার একজন শ্রদ্ধাভাজন আমাকে প্রশ্ন করেন,বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগে কি সর্বোচ্ছ নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যায় নাকি সেখানেও দূর্নীতি হয়?

আমি তখন ক্ষানিকটা চিন্তা করে বুঝতে পারি,আসলেই ত! যেখানে একজন সাধারন মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়ের জায়গা,ন্যায় বিচার পাওয়ার শেষ জায়গা সেখানেই ত প্রতিনিয়ত দূর্নীতি হয়।প্রায়শই দূর্নীতির নানা ইস্যু যা আমরা সচলাতায়নে প্রত্যক্ষ করি।

ঠিক যেমনটা নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্রে,উদাসীন মনোভাব!
যদিও এখানে নির্বাচন কমিশন নিয়ে লেখাটা মুখ্য বিষয় না,তারপর নিহাত বললাম।আমার মুখ্য উদ্দেশ্য একজন নির্বাচনকারী বা জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে!

একজন জনপ্রতিনিধি যখন নির্বাচন কমিশনের এঁটে দেয়া নিয়মের বাইরে যেয়ে নির্বাচনকালীন সময় অর্থ ব্যয় করে এবং আমরা যারা স্ব-সাদরে সেই কালো অর্থ উপহার মাত্র এক কালীন গ্রহন করি কখনও কি আমরা ভেবে দেখেছি এই কালো টাকার উৎস কোথায়?
কোথায় থেকে আসে এই অর্থ?
কখন কি ভেবে দেখেছি নির্বাচন পরবর্তী সময় এই টাকা আমাদের কাছ থেকে কীভাবে পরোক্ষভাবে সুদে আসলে ফেরত নেয়া হয়?

ভাবি নাই! একবারের জন্যও না!

এক রাতের কালো টাকায় যখন আপনি বা আমি আমাদের মূল্যবান ভোটটি বিক্রি করে দিচ্ছি তখন পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য অর্থ প্রদানকারী জনপ্রতিনিধি কাছে আমরা নামমাত্র বিক্রি হয়ে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে আপনি বা আমি অপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া আর কিছুই না। যার ফলে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা,সামাজিক সুযোগ-সুবিধা এবং ন্যায়বিচার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছি।

তাই এখনি সময়,পরিবর্তন হওয়ার,পরিবর্তন করার!হয়তবা আমরা পারবা না,নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা রুখতে,নির্বাচনকারী প্রতিনিধির কালো টাকার অর্থসংস্থান রুখে দিতে! তবে আমরা যেটা পারি এবং পারব,যোগ্যদের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে যোগ্য স্থান সুনিশ্চিত করে দিতে। আমরা পারব,দুষ্টুদের দৌরাত্ম্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানবতার মানবিক বিকাশ ঘটাতে। আমরা পারব,দূর্নীতিবাজদের কালোহাত দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে আমাদের সুন্দর আগামী গড়তে।আমরা চাইলেই পারব,এরকম একজনকে বেছে নিতে যিনি মানবতার প্রতিনিধি,দু’তিনটা কাগজের নোটের না!

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত