1. info@voicectg.com : Voice Ctg :
মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ২ – ভয়েস চট্টগ্রাম ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে। কক্সবাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠা তরুণীর মৃত্যু। আকাশে ওড়ার ১৫ মিনিটের মাথায় নভোএয়ারের জরুরি অবতরণ। এবার ঘুমধুমের টমটম চালক আনিসের ঝুড়িতে মিললো ৬১১২ পিস ইয়াবা। ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন দিবস -তথ্যমন্ত্রী। বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন মুস্তাফার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত। আওয়ামীলীগের মাঠজরীপে আছহাব উদ্দিন মেম্বার আবারো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। মেয়ে তুমি জম্মেই অভিশপ্ত – লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ কাজল দাশ, সম্পাদক ভয়েস চট্টগ্রাম উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবাসহ এক নারী মাদককারবারি আটক।

হাজারীর আত্মজীবনী (পর্ব ১) লেখকঃ রাজনৈতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কলামিস্ট জয়নাল আবেদীন হাজারী।

ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

হাজারীর আত্মজীবনী (পর্ব ১)

পূর্বকথা –
অন্য অনেক মানুষের মতো আমিও জীবনে নানা স্বপ্ন দেখেছি ,স্বপ্নগুলো বিশাল কিছু নয়।গোছানোও নয়। সবই এলোমেলো কখনো ভেবেছি। খেলোয়াড় হবো, আবার কখনো অভিনয় করার কথাও ভেবেছি, কিন্তুশেষ পর্যন্ত কোনোটাই হইনি । আর যেমন হয়েছি সেটা প্রথম জীবনে কোনোদিন ভাবিনি ,অথচ সেটা আমার মূল পরিচয়। অর্থাৎ রাজনীতিক। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লাম সেই ছাত্রজীবনেই। তারপর অন্য কিছু করার কথা চিন্তাও করতে পারিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি কিছুই না। রাজনীতির সঙ্গে সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছিলাম । অবশ্য রাজনীতি করে জিতলাম,কি হারলাম-সে অঙ্ক মেলাবার চিন্তা কখনো করেনি।আমার রাজনৈতিক জীবনে সুখ-দুঃখহাসি-কান্না সবই ছিল সেসব নিয়ে আজ ভাবি না।তবে জীবনে এই পড়ন্ত বেলায় এসে বড় ভাবনা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে নানা রটনা ও অপপ্রচারগুলোকে নিয়ে। তাই এসব বিষয়ে আমার কথা বলা দরকার,জবাব দেওয়া দরকার।ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করতে চাই ওইসব কলঙ্কের কালি।

কারণ কলঙ্কোর বোঝা মাথায় নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে যেতে চাই না। আর এই কলঙ্কমোচনের জন্যই আত্মজীবনী লিখলাম। এটা আমার ভক্ত এবং নিন্দুকসহ প্রিয় দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।প্রকাশ করতে চাই আমার না-বলার কথাগুলো,মনের ভাব ও ভাবনাগুলো। জানি এতে বাধা-বিপক্তি অনেক, তবু সে বন্ধুর পথ আমাকে ডিঙাতে হবে।

আমার লেখা প্রকাশও প্রচার করতে সবাই আগ্রহ দেখায়, আবার ভয়ও পায়। আর এজন্যই আমি প্রথমে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছি।‘মাস্টারপাড়া ডটকম‘ নামে একটি ওয়েবসাইট উতোমধ্যেই আত্মকথাটি প্রকাশ করেছি ।ফলে সারা পৃথিবীর পাঠকরা তা পড়তে পারছেন। আমার ধারণা, এই উদ্যোগ অনেকটাই সফল হয়েছে। তাই এখন ই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি , এর ফলে আমার কলঙ্কের বোঝা অনেকটা লাঘব হবে। আমরা জানি, দোষে-গুণে মানুষ। পুরোপুরি নির্দোষ মানুষ হতে পারে না।তাই দোষ-ত্রুটি আমারও হতে পারে। কিন্তু যে দোষ করিনি-সে জন্য যদি দোষী করা হয়, সেটা নিশ্চয়ই দুঃখজনক।

এক সময় আমি খুব লেখাপড়া করতাম । প্রগতিশীল লেখকদের লেখাই হাতে বেশি আসত । কিন্তু কোনোদিন হিটলারের পক্ষে লেখা বই আমাদের দেশে পাইনি।উগান্ডার মতো কয়েকটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্রই হিটলার নিন্দিত। হিটলারকে নিয়ে লেখা যেখানে যা পেয়েছি সবই পড়ার চেষ্টা করেছি। তবে হিটলারকে আমি যে দৃষ্টিতে দেখি তা প্রকাশ করার পরিবেশ নেই। লক্ষনীয় যে, হিটলার বেঁচে থাকতে তাকে নিয়ে যত লেখা হয়েছে, তারচেয়ে শতগুন বেশি হয়েছে মৃত্যুর পর। হিটলারের বিরুদ্ধে লেখার প্রতিযোগিতা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করেনি বা করতে পারেনি।হিটলার মারা গেছে তাই তার ওপর আরোপিত কলঙ্ক মুছে ফেলার চেষ্টা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আমি ভাগ্যবান । কারণ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারগুলো খণ্ডন করার প্রয়াস পাচ্ছি।

অনেক সময় ভাবি, যে হিটলার ছবি আঁকতেন এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন,তিনি কিভাবে অমন পিশাচ হতে পারেন? অমন একটি নিষ্ঠুর মানুষকে কিভাবে ইভা ব্রাউন নামের একটি অনিন্দ্যসুন্দরী নারী ভালোবেসে সানন্দচিত্তে সহমরণকে বরণ করে নিলেন। হিটলারও ইভাকে খুব ভালোবাসতেন । সে জন্য যুদ্ধের বিপদ থেকে তিনি ইভাকে সর্বদা সরিয়ে রাখতেন। রক্ষা করতে করা নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রেখে ,কিন্তু ইভা বিপদকে পরোয়া করতেন না, হিটলারের কাছেই ফিরে ফিরে আসতেন। কেউ যদি হিটলার ও ইভাকে এ যুগের শ্রেষ্ঠতম প্রেমিকযুগল বলে, সবাই তাকে হয়তো পাগল বলবে, আমি কিন্তু কিছু বলব না । লায়লী-মজনু ও শিরি-ফরহাদের কাহিনী তো আরব্য উপন্যাসের গল্প। আধারকারকে সুনন্দা ব্যানার্জী প্রতারনা করেছিলেন,কিন্তু ইভা হিটলারকে ভালোবেসেছিলেন বলেই শুধু জীবনে নয়,মরণেও সাথী হয়েছিলেন । আমার প্রায়ই মনে হয় হিটলারকে নিয়ে যত কথা বলা হয়েছে, তার সবটা হয়তো সত্য নাও হতে পারে । কিন্তু আজ সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে হিটলার যে ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে ঠাঁই করে নিয়েছেন, সেটাই হয়তো বিশ্ববাসীর কাছে তার পরিচয় হয়ে থাকবে আরও বহুকাল। এ বিষয়টি আমাকে ভাবায়,বিচলিত করে। আমার মধ্যে কিছু ভিন্ন চিন্তার প্রভাব কাজ করে। যেমন তাজমহল আমাকে মুগ্ধ করে না। হায়দারাবাদের হোসেন সাগরের মাঝখানে পাথরের বিশাল বুদ্ধিমূর্তি কিংবা টিপু সুলতানের দূর্গ আমার ভালো লাগে । কিন্তু পিকাসোর ছবি র আগামাথা কিছুই বুঝি না।সুতারাং টাকা দিয়ে কেনা তো দূরের কথা,সেগুলো বিনা পয়সায় দিলেও নিবো না। আবার সমুদ্রের ওপার সূর্যস্তের দৃশ্য দেখে যারা আপ্লুত হন , আমি তাদের দলে নই।আমার সবচেয়ে প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত।যতদিন বেঁচে থাকব,শুধু রবীন্দ্রসংগীত নিয়েই থাকতে চাই।

আশাকরি আমার আত্মজীবনী জনসমক্ষে বা পাঠকের কাছে সঠিকভাবে পরিবেশিত হলে আসল সত্য উদঘাটিত হবে,মিথ্যাও অপপ্রচারের সঠিক জবাব সবাই পেয়ে যাবেন।অসত্য পরাভূত হবে,সমালোচক ও নিন্দুকেরা মাথানত করবেন এবং তাদের মুখোস খুলে যাবে। আমার এ আত্মজীবনী ২০০১ সাল পর্যন্ত সংগঠিত ঘটনা নিয়ে আবর্তিত। কৌশলগত কারণে ২০০১ সালের পরের ঘটনাগুলো এখানে আনিনি। আত্মগোপনের এক দশক নামে তা পরে প্রকাশের আশা রাখি । ডায়েরির পাতায় ওই সময়ের সব ঘটনাই লেখা আছে। তাই আগামী দিনে যে বইটি আসবে তাতে সহজেই ওই এক দশকের সবকিছু উঠে আসবে।
সবশেষে বলি,

দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম
হে স্বদেশ ফের সেই কথা জানালাম

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত