1. info@voicectg.com : Voice Ctg :
মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ২ – ভয়েস চট্টগ্রাম ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে। কক্সবাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠা তরুণীর মৃত্যু। আকাশে ওড়ার ১৫ মিনিটের মাথায় নভোএয়ারের জরুরি অবতরণ। এবার ঘুমধুমের টমটম চালক আনিসের ঝুড়িতে মিললো ৬১১২ পিস ইয়াবা। ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন দিবস -তথ্যমন্ত্রী। বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন মুস্তাফার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত। আওয়ামীলীগের মাঠজরীপে আছহাব উদ্দিন মেম্বার আবারো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। মেয়ে তুমি জম্মেই অভিশপ্ত – লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ কাজল দাশ, সম্পাদক ভয়েস চট্টগ্রাম উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবাসহ এক নারী মাদককারবারি আটক।

ফটিকছড়ির ৮০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী ৪১ বছরে জমালেন ৫০ লাখ পুরোটাই করলেন দান।

ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২

 

কখনও নাশতা খরচ আবার কখনও গাড়ি ভাড়া বাঁচিয়ে টাকা জমিয়েছেন টিনের কৌটায়। এক টাকা, দুই টাকা কখনও ১০০ টাকা। ৪১ বছরে জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ। ওই টাকা ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দান করে অনন্য নজির স্থাপন করলেন ৮০ বছর বয়সী কাজী মোহাম্মদ আলী।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ফরহাদাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী থাকেন নগরীর পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর হামজারবাগ এলাকায়। পৈতৃক বাড়ির একতলা ঘরে দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূ নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

সম্প্রতি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ওয়াক্ফ হিসাব খুলে ৫০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওয়াক্ফ হিসাবের কাগজপত্র চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির কাছে হস্তান্তর করেন। ওয়াক্ফ হিসাবের মূল টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে পারবেন না মোহাম্মদ আলী বা তার স্বজন এমনকি রোগী কল্যাণ সমিতি। কেবল বছর শেষে মুনাফা পাবে সমিতি। রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে মুনাফার টাকা তোলা যাবে। ওই টাকায় চিকিৎসা হবে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‌‘আমার নানা ক্যানসারে মারা গেছেন, আমার মা হোসনে আরা বেগম ক্যানসারে মারা গেছেন। আমার ছোট বোনের মেয়ে নাহিদা সোমাও ক্যানসারে মারা গেছে। এ নিয়ে আমার মনে একটা কষ্ট আছে। আমি যদি ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য কিছু করতে পারি, তাহলে আমার মনের কষ্ট দূর হবে। এজন্য মূলত টাকাটা জমিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার এসব টাকা ১৮ বছরের নিচে ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যয় হবে। কেননা আমি চিকিৎসকদের কাছে শুনেছি, শিশুদের ক্যানসার নিরাময়যোগ্য। যদি তারা ঠিকমতো ওষুধ ও চিকিৎসা পায় তাহলে সুস্থ হয়ে যায়। ক্যানসারের ওষুধ অনেক দামি। গরিব শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যানসার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই ১৮ বছরের নিচে ক্যানসার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে টাকাটা ব্যয় করতে বলেছি। তারা যদি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে মা-বাবার কাছে ফিরে তাহলে আমার কষ্ট সার্থক হবে।’

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‌‘১৯৬৬ সালে বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি তৎকালীন ফাইজারে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি নিয়েছিলাম। এরপর ১৯৮০ সাল থেকে কিছু টাকা জমানো শুরু করি। কখনও গাড়ি ভাড়ার খরচ বাঁচিয়ে আবার কখনও নাশতা খরচ বাঁচিয়ে গোপনে এই টাকা জমিয়েছি। বাড়িতে একটি টিনের কৌটায় টাকা জমাই। ২০০০ সালে যখন টাকার অঙ্ক বড় হয় তখন মা-বাবার নামে ‘কাজী অ্যান্ড হোসেন ফাউন্ডেশনে’ একটি হিসাব নম্বর খুলে টাকা জমা করি। আমার স্বপ্ন ছিল, ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা জমা করে ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তায় দান করবো। এরই মধ্যে আমার অনেক পরিচিত ব্যক্তিবর্গ এখান থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করেছেন। ব্যবসায় লাভ হওয়ার পর তারা ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ মুনাফায় টাকা পেতেন একই পরিমাণ মুনাফা আমাকে দিয়েছেন। কেউ কেউ খুশি হয়ে আরও বেশি দিয়েছেন। এভাবে ৪১ বছরে ৫০ লাখ টাকা জমা হলো। ২০২১ সালে টাকাটা ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতিতে জমা দিই। সপ্তাহখানেক আগে ওয়াক্ফ হিসাবের কাগজপত্র সমিতির কাছে হস্তান্তর করেছি।

তিনি বলেন, ‘২০০৫ সালে বিক্রয় ব্যবস্থাপক পদ থেকে অবসরে যাই। দুই ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হামজারবাগ এলাকার বাসায় থাকি। দুই ছেলে ব্যবসা করে। দুই পুত্রবধূ ব্যাংকার। আমরা ভালো আছি।’

শ্বশুরের এই মহতী কাজে খুশি পুত্রবধূ নাসরিন আকতার ও তিরবিজ আকতার। পুত্রবধূ তিরবিজ আকতার বলেন, ‘শ্বশুরের জমানো টাকায় ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা হবে, এটা অত্যন্ত খুশির খবর। এই টাকায় ক্যানসার আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি যদি সুস্থ হয় তাহলে শ্বশুরের কষ্ট সার্থক হবে।’

রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা বলেন, ‘প্রথমে ভাবতেই পারিনি একজন মধ্যবিত্ত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এত টাকা দান করবেন। এটি একটি নজির। বিষয়টি অন্যদের উৎসাহিত করবে। তার দেওয়া অর্থ দিয়ে এক বছরে তিন জন ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে তাদের যাবতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, ‘এই অনুদানের টাকা ১৮ বছরের নিচে দরিদ্র ক্যানসার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ব্যয় হবে। মধ্যবিত্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির এই দান আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। সমাজে এখনও ভালো মানুষ রয়েছেন। আমরা মোহাম্মদ আলীকে সাধুবাদ জানাই।’

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত